April 5, 2026, 5:32 am

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ায় বিশিষ্ট সমাজসেবী নিলুফার খানম-এর স্মরণে এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে শনিবার ৪ এপ্রিল কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতি প্রাঙ্গনে। স্মরণসভাতে তাঁর কর্মময় জীবন ও মানবসেবামূলক অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন উপস্থিত বক্তারা।
তারা বলেন, নিলুফার খানম এনি তাঁর নিষ্ঠা, মানবিকতা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এমন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশ হার্ট রিসার্চ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় ও কুষ্টিয়ারে ডায়াবেটিক সমিতি এই স্মরণসভার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. এ. কে. আজাদ খান, জাতীয় অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি-এর চেয়ারম্যান।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, নিলুফার খানম আজীবন অসহায় ও রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিশেষ করে ডায়াবেটিস সচেতনতা ও চিকিৎসা সহায়তায় তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতো নিবেদিতপ্রাণ মানুষের অভাব সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
তিনি বলেন, নিলুফার এ্যানী যেসব কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছিলেন, মানবতার স্বার্থে সে কর্মকাণ্ডগুলো এগিয়ে নেয়া উচিত।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার মো. জাকির হোসেন সরকার, সদস্য সচিব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কুষ্টিয়া জেলা শাখা।
তিনি বলেন, নিলুফার খানম শুধু একটি নাম নয়, বরং একটি আদর্শ। সমাজসেবার প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও নিষ্ঠা সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি মরহুমার রেখে যাওয়া ভালো ভালো কাজগুলো এগিয়ে নিতে তার সহযোগিতা থাকবে বলে উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ রেজওয়ানুল কবির, যিনি বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি-এর ন্যাশনাল কাউন্সিলের সদস্য। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, নিলুফার খানম-এর মতো নিবেদিত কর্মী সমাজের জন্য বিরল সম্পদ। তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এ সময় সৈয়দ রেজওয়ানুল কবির, এ্যানির রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ সম্পাদন করতে তার নামে ফাউন্ডেশন অথবা ট্রাস্ট ঘোষণার আহ্বান জানান এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে উক্ত ট্রাস্টে ১০ লক্ষ টাকা দান করার ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন মরহুম নিলুফার খানম এ্যানির স্বামী বিশিষ্ট সমাজসেবক, কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি, ও সদস্য বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি ন্যাশনাল কাউন্সিল মতিউর রহমান লালটু।
তিনি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, নিলুফার এ্যানির মত একজন সহৃদয় ও মহীয়সী নারী তার জীবনসঙ্গিনী ছিলেন এজন্য তিনি গর্বিত।। তিনি বলেন নিলুফার যে কাজগুলো তার জীবদ্দশায় করে গেছেন সেগুলো অব্যাহত রাখা হবে।
তিনি বলেন শীঘ্রই নিলুফার স্মরণে কয়েকটি জেলা ব্যাপি হার্ট ক্যাম্প করা হবে।
আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ড. আমানুর আমান।
তিনি তাঁর বক্তব্যে নিলুফার খানম-এর কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে বলেন, একজন মানুষের প্রকৃত সাফল্য তার অর্জনে নয়, বরং সমাজে রেখে যাওয়া প্রভাবের মধ্যে নিহিত। নিলুফার খানম সেই অর্থে একজন সফল মানুষ, যিনি নিঃস্বার্থভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজের প্রতিটি মানুষকে মানবসেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সাংবাদিক মিজানুর রহমান লাকি,কবি আবৃত্তিকার ও সরকারের সাবেক কর্মকর্তা ডাক্তার সমর কুমার ঘোষ, কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতির মেডিকেল অফিসার আফরোজা আক্তার পিয়া,যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার ফয়সাল তিতুমীর, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার মাসুক মিয়া, দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার বাসেদ আকন্দ,সাংবাদিক শহিদুল আনাম রাকিবুর রহমান ও শাহিনুর রহমান।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া ডায়াবেটি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান টরলিন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ডা. এস. আর. খান। তিনি বলেন, নিলুফার খানম-এর কর্মজীবন ছিল মানবকল্যাণে নিবেদিত। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে মানুষের কল্যাণে নিরলস কাজ করে গেছেন।
উল্লেখ্য, নিলুফার খানম ছিলেন কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতি-এর সক্রিয় সদস্য, বাংলাদেশ হার্ট রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ অন্ধ কল্যাণ সমিতি-এর আজীবন সদস্য। তাঁর এই বহুমুখী সামাজিক সম্পৃক্ততা তাঁকে মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান এনে দিয়েছে।
অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতি এবং মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল হাসপাতাল, সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ হার্ট রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন।
শেষে নিলুফার খানম-এর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত সবাই তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে সমাজসেবায় এগিয়ে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।